Skip to content

ফ্রিল্যান্সিংয়ে রেট ঠিক করা — ঘণ্টার হিসাব থেকে বেরোনোর উপায়

ঘণ্টায় দাম দিলে আপনি দ্রুত কাজ শেখার জন্য শাস্তি পান। স্কোপ, বাফার আর কীভাবে একটা সংখ্যা বলার আগে প্রশ্নগুলো করতে হয়।

তাসনিম আরা

তাসনিম আরা

প্রোডাক্ট ডিজাইনার

৬ মিনিটের পড়া
শেয়ার

ঘণ্টায় দাম নেওয়ার একটা কাঠামোগত সমস্যা আছে, আর সেটা রেট কম না বেশি তার সাথে সম্পর্কিত নয়।

আপনি যত ভালো হবেন, একই কাজ তত দ্রুত করবেন। ঘণ্টায় বিল করলে দক্ষতা বাড়ার সরাসরি ফল হলো আয় কমা। পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা দিয়ে যে কাজটা তিন ঘণ্টায় করছেন, নতুন কেউ সেটা বারো ঘণ্টায় করবে — এবং চারগুণ বেশি পাবে।

এটা কোনো নৈতিক সমস্যা নয়, হিসাবের সমস্যা। আর সমাধানটা রেট বাড়ানো নয়, ইউনিট বদলানো।

ঘণ্টা নয়, ফল

ক্লায়েন্ট ঘণ্টা কিনছে না। সে কিনছে একটা কাজ হয়ে যাওয়া — একটা ল্যান্ডিং পেজ যেটা কনভার্ট করে, একটা ড্যাশবোর্ড যেটা তার টিম বুঝতে পারে।

তাই প্রস্তাবটা এভাবে লেখা:

ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন ও বিল্ড — ৪টি সেকশন, রেসপন্সিভ, দুই রাউন্ড রিভিশন। ডেলিভারি ১২ কর্মদিবস। ৳XX,XXX।

"৪০ ঘণ্টা × ৳X" নয়। প্রথমটায় ঝুঁকি আপনার, দ্বিতীয়টায় ঝুঁকি ক্লায়েন্টের — আর ক্লায়েন্ট ঝুঁকি নিতে চায় বলেই আপনাকে ডেকেছে।

সংখ্যা বলার আগে যে প্রশ্নগুলো

দাম বলার আগে অন্তত এই কয়টার উত্তর দরকার। উত্তরগুলো না জেনে দেওয়া প্রতিটা কোটই আসলে একটা অনুমান:

  • কে সিদ্ধান্ত নেবে? একজন, না কমিটি? অনুমোদনকারীর সংখ্যার সাথে রিভিশনের সংখ্যা প্রায় রৈখিকভাবে বাড়ে।
  • কনটেন্ট কে দেবে? "আপনি লিখে দিন" একটা আলাদা প্রজেক্ট, এবং সেটাই সবচেয়ে বেশি সময় খায়।
  • কীসের সাথে যুক্ত হবে? একটা বিদ্যমান কোডবেস, নাকি নতুন? পুরোনো কোডে ঢোকার সময়টা কেউ হিসাব করে না।
  • ডেডলাইনটা কার? কোনো ইভেন্ট বা লঞ্চের সাথে বাঁধা থাকলে বাফার বাড়াতে হবে।
  • "শেষ" মানে কী? ডিজাইন ফাইল, নাকি ডিপ্লয় করা সাইট? এই একটা প্রশ্নে প্রজেক্টের আকার দ্বিগুণ হতে পারে।

শেষ প্রশ্নটাই সবচেয়ে বেশি টাকা বাঁচায়।

বাফারটা লুকিয়ে রাখবেন না

সবাই বাফার রাখে। বেশিরভাগ মানুষ সেটা রেটের ভেতর লুকিয়ে রাখে, তারপর স্কোপ বাড়লে অস্বস্তিতে পড়ে।

ভালো উপায় হলো সীমাটা লিখে রাখা:

দুই রাউন্ড রিভিশন অন্তর্ভুক্ত। এর পরের প্রতিটি রাউন্ড ৳X,XXX।

এটা ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে নয় — এটা তাকে তথ্য দেয়। এখন সে জানে তৃতীয় রাউন্ডের দাম কত, আর সিদ্ধান্তটা তার হাতে। যেসব প্রজেক্ট তিক্ত হয়, সেগুলোর প্রায় সবগুলোতেই এই লাইনটা ছিল না।

প্রথম সংখ্যাটা কীভাবে বের করবেন

একটা কাজ করা যায়: বছরে যত টাকা দরকার, সেটা থেকে পিছিয়ে হিসাব করুন।

text
বার্ষিক লক্ষ্য              ৳১২,০০,০০০
+ খরচ (সফটওয়্যার, ডিভাইস)     ৳১,০০,০০০
+ কর ও অনিশ্চয়তা (~২৫%)       ৳৩,২৫,০০০
────────────────────────────────────────
মোট দরকার                   ৳১৬,২৫,০০০

বিলযোগ্য সপ্তাহ (ছুটি ও ফাঁকা বাদে)      ৪০
সপ্তাহে বিলযোগ্য দিন (বাকিটা সেলস, শেখা)  ৩
────────────────────────────────────────
বিলযোগ্য দিন                 ১২০
দৈনিক হার                    ~৳১৩,৫০০

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাটা ৫২ সপ্তাহ নয়, ৪০ এবং ৫ দিন নয়, ৩। প্রস্তাব লেখা, ইমেইল, ইনভয়েস, নতুন কিছু শেখা — এগুলো কাজের অংশ, কিন্তু কেউ এর বিল দেয় না। ৫ দিন ধরে হিসাব করলে আপনি সপ্তাহে সাত দিন কাজ করেও লক্ষ্যে পৌঁছাবেন না।

এই দৈনিক হারটা ক্লায়েন্টকে বলার জন্য নয়। এটা আপনার নিজের জন্য — একটা ফিক্সড প্রাইস দেওয়ার পর যাচাই করার মাপকাঠি।

কম রেটে "পোর্টফোলিওর জন্য" কাজ

মাঝে মাঝে যুক্তিসঙ্গত — শুরুতে, বা এমন একটা কাজ যেটা সত্যিই দেখানোর মতো হবে। কিন্তু তখনও ছাড়টা লিখে রাখুন:

স্বাভাবিক মূল্য ৳XX,XXX। এই প্রজেক্টে ৳XX,XXX — কেস স্টাডি হিসেবে প্রকাশের অনুমতির বিনিময়ে।

কারণ ছাড়টা অদৃশ্য হলে সেটাই আপনার রেট হয়ে যায়। ওই ক্লায়েন্ট পরের প্রজেক্টে একই সংখ্যা আশা করবে, আর সে যাকে রেফার করবে সেও তাই করবে।

শেষ কথা

রেট নিয়ে সবচেয়ে কাজের পরিবর্তনটা আসলে সংখ্যায় নয় — সেটা হলো দাম বলার আগে প্রশ্ন করার অভ্যাস। যে প্রজেক্টগুলোতে লোকসান হয়, সেগুলো কম রেটের কারণে হয় না; হয় এমন একটা স্কোপের কারণে যেটা কেউ শুরুতে লিখে রাখেনি।

  • #ফ্রিল্যান্সিং
  • #ক্লায়েন্ট
  • #স্কোপ
শেয়ার

সম্পর্কিত লেখা

ব্যবসা ও মনোবিজ্ঞান৮ মিনিটের পড়া

মানুষ কেন অচেনা কারো কাছ থেকে কিনতে দ্বিধা করে — Trust Signal যেভাবে সেল বাড়ায়

একই ল্যান্ডিং পেজ, একই দাম, একই প্রোডাক্ট — শুধু নিচে তিনটা রিভিউ যোগ করলেই কনভার্শন বদলে যায়। এটা কাকতালীয় না, মানুষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অন্যদের আচরণ দেখেই ভরসা করে।

সাদিয়া ইসলামসাদিয়া ইসলাম
ব্যবসা ও মনোবিজ্ঞান৮ মিনিটের পড়া

প্রোডাক্ট বেচবেন না, সমস্যার সমাধান বেচুন — Customer আসলে কী 'hire' করছে

একজন কাস্টমার মিল্কশেক কেনে না — সকালের বোরিং গাড়ি-চালানোর সময়টাকে সহনীয় করার একটা উপায় কেনে। প্রোডাক্টের ফিচার লিস্ট না, এই "job"-টা বুঝলেই সেল বাড়ে।

সাদিয়া ইসলামসাদিয়া ইসলাম
ব্যবসা ও মনোবিজ্ঞান৭ মিনিটের পড়া

কাস্টমার দাম দেখে কেনে না, তুলনা দেখে কেনে — Price Anchoring যেভাবে কাজ করে

একই প্রোডাক্ট, একই দাম — শুধু পাশে আরেকটা অপশন বসিয়ে দিলেই সেল বেড়ে যায়। ম্যাজিক না, এটা মানুষের মস্তিষ্কের একটা পরিচিত প্যাটার্ন — Anchoring।

সাদিয়া ইসলামসাদিয়া ইসলাম

মাসে একটা কাজের ইমেইল

ডিজাইন সিস্টেম প্যাটার্ন, ফ্রন্ট-এন্ড টেকনিক আর লার্ন প্ল্যাটফর্মের নোট। কোনো প্রচার নেই, অন্যের লিংকের সংকলনও নেই।

যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন। আপনার ঠিকানা কারো সাথে শেয়ার করি না।